রংপুরে এক পরিবারের চারজনকে হত্যায় তিন যুবক আটক
নিজস্ব প্রতিবেদক
রংপুর জিলা স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তান হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ নামের তিন যুবককে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। রোববার ভোর ৫টা পর্যন্ত নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, তাদের বাড়ি একই এলাকায়। হত্যাকাণ্ডের পর ওই ভবনে বসে তাদের ইয়াবা সেবনের আলামত পাওয়া গেছে।
রংপুর কোতোয়ালি থানার ওসি নাজমুল জানান, চারজনের হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযানে নামে। অভিযানের একপর্যায়ে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে আটক করা হয়। আটকদের মধ্যে একজন পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে পাশের রেশম উন্নয়ন বোর্ডের তুতবাগানে লুকিয়ে থাকেন। পরে পাশের দখীগঞ্জ শ্মশান এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। স্থানীয় যুবকদের একটি দল ডাকাতির উদ্দেশে বাড়িতে ঢুকে এই নৃশসং হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
মেট্রোপলিটন পুলিশ কর্তৃপক্ষ আটকের বিষয়টির আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি না দিলেও দুপুরে মহানগর পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনের আহ্বান করা হয়েছে।
এর আগে শনিবার রাতে মাছুয়াপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনের গলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত অন্য ব্যক্তিরা হলেন—গণপতি চক্রবর্তীর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী পার্থী (২৪) এবং ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়ম (১২)।
রংপুর সিআইডি কার্যালয়ের ইনচার্জ সুমিত চক্রবর্তী জানান, ঘটনাটি দুই থেকে তিন দিন আগে ঘটে থাকতে পারে। বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল এবং আসবাবপত্রের ড্রয়ার ও স্বর্ণালংকার রাখার স্থানগুলো ভাঙা পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ডাকাতির বিষয়টি সামনে এলেও প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে।
রংপুর মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও উপ-কমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী জানান, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে তাদের শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। বাড়ি তছনছ করার ধরন দেখে মূল্যবান জিনিসপত্র লুটপাট করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে এবং দ্রুতই ঘটনার মূল রহস্য উন্মোচন ও জড়িতদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।